সৌদি আরব প্রবাস জীবনের সূচনা ও আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা 🇸🇦✈️
জীবনের প্রথম যখন সৌদি আরব আসার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এক নতুন পথচলা। প্রথমেই ৬,৭৫০ টাকা দিয়ে মেডিকেল সম্পন্ন করলাম। মেডিকেল রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট জমা দিলাম এজেন্সিতে।
এরপর যমুনা ফিউচার পার্কে মাত্র ৬৫০ টাকা ফি দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করলাম। এজেন্সির প্রসেসিং খরচ বাবদ দিয়েছিলাম মাত্র ১৫,০০০ টাকা। এরপর তিন দিনের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শেষ করে ৪৬০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে ম্যানপাওয়ারের জন্য আবেদন করলাম, যা পরবর্তীতে এজেন্সির লোকই তুলে দিয়েছিল। সবশেষে ৫৫,০০০ টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কেটে তিন মাসের একটি ভিসায় (যার খরচ ছিল ৪,০০০ রিয়াল বা তৎকালীন প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা) পা রাখলাম স্বপ্নের সৌদি আরবে। এটাই ছিল আমার দেশ থেকে সৌদি আরব আসার পুরো খরচের হিসাব।
এখানে এসে কাজে যোগ দিলাম এবং আল্লাহর রহমতে দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছিল। তবে প্রবাস জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমি পেয়েছি, যা নতুনদের জন্য জানা খুব জরুরি:
১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও রোমিং সিম: দেশ ছাড়ার আগেই বাংলাদেশে নিজের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়া উচিত। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—অ্যাকাউন্টে যে ফোন নম্বরটি যুক্ত থাকবে, সেটি অবশ্যই রোমিং (International Roaming) চালু করে সাথে নিয়ে আসবেন। তা না হলে প্রবাসে এসে ওটিপি (OTP) বা লেনদেনের অভাবে মারাত্মক আর্থিক ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। ২. তাকামুল সার্টিফিকেট (SVP / Takamol): বর্তমান সময়ে সৌদি আরব আসার জন্য প্রফেশনাল স্কিল ভেরিফিকেশন বা তাকামুল সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিজেই আগে থেকে করে নেওয়া যায়। দেশ থেকেই এই প্রস্তুতি নিয়ে এলে প্রবাসে এসে কাজের সুযোগ পাওয়া এবং কাজ করা অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হয়।
পরিকল্পনা ও সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রবাসে পা রাখলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকেই নিরাপদে থাকা সম্ভব।

Comments are closed.